প্রথমবর্ষ : প্রথম সংখ্যা

সম্পাদকীয়



'সোঁদামাটি' আমাদের একটি অনলাইন 'ছোটো পত্রিকা'। আপনাদেরও। তার পথ চলা শুরু হল। শিশুকে আঙুল ধরে হাঁটতে সাহায্য করার মতোই আপনাদের, আমাদের হাত ধরেই একদিন 'সোঁদামাটি' সাবালক হবে। এ প্রত্যয় আমাদের আছে। যে সংক্ষুব্ধ সময়ে 'সোঁদামাটি'র আত্মপ্রকাশ ঠিক সেই সময়ে বাংলা ও বাঙালির সামনে অনেক প্রশ্নচিহ্ন বর্তমান। সমাজের সার্বিক স্তরে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। হিটলারের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়াচ্ছে আনাচে কানাচে। স্বার্থপর দৈত্যদের দাঁত নখ আরও লম্বা হচ্ছে ক্রমশ। আমার আপনাদের চার চারপাশে প্রতিক্রিয়াশীলদের দাপাদাপি। গণমাধ্যম খুললেই একরাশ মনখারাপ। তবুও স্বপ্ন জাগে প্রত্যয়ী মনে। নিষ্ঠা, জেদ, সংগ্রাম- শব্দগুলো বড় প্রিয় হয়ে ওঠে আমাদের। পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া ধরিত্রীর বুক থেকে উঠে আসা সোঁদামাটির গন্ধ স্বপ্ন এঁকে দেয় আমাদের বুকে। যে স্বপ্ন আমাদের ঘুমোতে দেবে না। বিশ্বাসী আমরা, প্রত্যয়ী আমরা। আপনাদের প্রত্যেকের সহযোগিতায় 'সোঁদামাটি'র গন্ধ পোঁছে যাবে রূপসী বাংলার প্রতিটি দুয়ারে।

২৫শে বৈশাখ, ১৪২১
বিনীত        
সম্পাদক     
দীননাথ মণ্ডল 

শেয়ার করুন

ঝোড়ো হাওয়া

II মৌমি ঘোষ  II




সব কিছু তছনছ করা এক অন্ধকার রাত
সাথে আছে এক পশলা বৃষ্টি।
খোলা আছে জানলা।
আসে নতুন আহ্বান নিয়ে পৃথিবীর বুকে
জলের ফোঁটা।
ঝেড়ে ফেলে সব মলিনতা।
বাতাসের সাথে ভেসে আসে,
মাটির নরম গন্ধ।
চারিদিক ধূলোয় পরিপূর্ণ
গাছগুলো উন্মাদিত হয়েছে
কালো মেঘ গুলো শিহরণ জাগানো
গর্জন করছে।
হঠাৎ। শূন্যতা।
সমস্ত কোলাহল বন্ধ। নিস্তব্ধতা।
'বৃষ্টি'র মাঝে অশান্ত এক ঝোড়ো হাওয়া।



কবি পরিচিতি


জন্মস্থান: রানীগঞ্জ, বর্ধমান জেলা, পশ্চিমবঙ্গ ।

পেশা: ছাত্রী।



শেয়ার করুন

রাজিয়া

II পার্থ মুখার্জী II



পড়ছে মনে,
সেই দিনটা
কলেজের শুরু,
মনটা উথাল
মেঘলা আকাশ
ডাকছে গুরু গুরু।
দিনটা প্রথম,
বুক গুরগুর
ধীরে ধীরে চলা,
ক্লাসের সবাই
বেঞ্চে বসা
আমিও বসি সেথা।
চোখে পড়ল
এক কোণেতে
তার বসে থাকা,
কালো বোরখায়
মুখটা ঢাকা
পাশের আসন ফাকা।
অবাক হলাম
কান্ড দেখে,
এই যুগেতেও চলে !
আলোচ্চ্য হলো
বোরখা নারী,
সবার মুখে মুখে।
দিন গড়ায়
পড়ার ফাঁকে,
আলাপ বাড়ে
সবার সাথে,
জানতে পেলাম
রাজিয়া খাতুন
নাম সে মেয়েটার,
স্বল্প ভাসি,
স্মিত হাসি,
নেইকো অহংকার।
স্কলারশিপ টা
পায় তো ভালই
অধীতি টা তুখোর।
ক্লাসের সবাই
ভালোই বসে,
তারিফে সব মুখর।
সেদিন কেন যে
পাশে এসে বসে!
কথায় কথা গড়ায়,
জানতে পেলুম
গরিব ভারী,
নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
সুধাই তারে,
বোরখা কেন
নিত্য আবরনে?
মুখটা নিচু
বাক সরে না
দু চোখ ছলছল,
বিব্রত হই,
বাক্য হারাই,
মন যে টলোমল।
সময় বহে
আপন মনে,
দুইটি প্রাণী চুপ,
মুখটা তোলে,
চাউনি গভীর
বুক করে ধুপ ধুপ I
বললে হেসে
রাজিয়া খাতুন,
'কি আর বলি আমি
তোমরা সবাই
সাত দিনেতেই
পরছ পোশাক দামী,
বাবা আমার
রাজ মিস্ত্রী
সীমিত রোজগার,
পয়সা কোথায়?
পোশাক কিনব
পরিধেয় রোজকার!
ছিন্ন পোশাক,
বাধ মানে না
ভরপুর যৌবন ,
ঢাকব কিসে?
এই দীনতা !
বোরখা আপন জন।
মৌলবী দা
দান দিয়ে যান
বোরখা গোটা দুই,
সারটা দিন
গতর ঢাকি,
রাতে খুলে শুই।
উল্টা পুরান,
আমার পালা,
হলেম অধোবদন,
বললে সে যে,
গভীর স্বরে,
কিসের জন্যে রোদন?
পড়ছি আমি,
শক্ত হাতে
ধরব বাবার হাত,
সকাল বেলায়
মায়ের সেবা,
পড়ি সারা রাত।
মিষ্টি করে
থুতনি ধরে
মুখটি আমার তোলে,
সুয্যি মামার
রঙিন আলো
রাজির মুখে খোলে।
পরীর দেশের
গল্প কথা
ঠামির মুখে শোনা,
জ্যান্ত পরি
পাশেই বসে
সুরের আনাগোনা।



কবি পরিচিতি


বাসস্থান: বিবেকানন্দ পল্লী,বেহালা, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ।

পেশা: ইঞ্জিনিয়ার। 



শেয়ার করুন